ঘুরে এলাম কুড়িগ্রাম

পড়াশোনা, প্রজন্ম ফোরামের উন্নয়ন ও অন্যান্য কাজ করতে করতে একেবারে হাপিঁয়ে উঠেছি। তাই ভাবলাম একটু বিরতি দরকার। বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি অনেক দিন থেকেই। সময়, সুযোগ ও সাথী সবকিছু একসাথে হয়ে উঠেনি। রা.বি’র ভূগোল বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র খোকন ভাই অনেক দিন ধরেই তাদের এলাকায় বেড়াতে যাওয়ার জন্য বলছিলেন। গত রবিবার তিনি ঢাকা থেকে রাজশাহী এসেছেন আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু বেরসিক এক স্যারের ক্লাস কিছুতেই মিস দেয়া যাবে না। তাই তিনি এ কয়টা দিন এখানেই রইলেন। বুধবারে ক্লাস শেষে চড়ে বড়লাম বিআরটিসি বাসে। নাটোর হয়ে বগুড়া পৌঁছালাম।
বগুড়ায় নামলাম যাত্রা বিরতিতে। সেখানেই চোখে পড়ল কৃষি অধিদপ্তর বা অন্য কারও বিশাল বিলবোর্ড যাতে লেখা:
“নবাবী, রাষ্ট্রশাসন উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্য। সাথে যুক্ত হল আলুচাষ”=))=))

এরপর গাইবান্ধা, রংপুর হয়ে প্রায় ৬ ঘন্টা পরে পৌঁছালাম তিস্তা স্টেশনে। সেখানে থেকেই রিকসায় চড়ে রাজারহাটে। রাত তখন প্রায় নয়টা। প্রায় ৪৫ মিনিট লাগল রাজারহাট পৌঁছাতে। খোকন ভাইদের বাড়িতে গিয়ে খাওয়া দাওয়া শেষে একটু নেটে বসলাম প্রাত্যাহিক কাজে। তারপর ঘুম।

সকাল বেলায় বের হলাম সিন্ধুরমতি দেখতে। কাহিনী শুনলাম খোকন ভাইয়ের মুখে। পুরোটা ঠিক মত মনে নেই। শামীম ভাই ভাল বলতে পারবেন হয়তো।

গল্পটা এরকম:
রাজার নাম মনে নেই। তখন এলাকায় প্রচন্ড পানির সমস্যা। তাই প্রজাদের সুবিধার্থে রাজা পুকুর কাটার নির্দেশ দিলেন। পুকুর কাটা হল কিন্তু পানি বের হল না। সবাই খুব চিন্তায় পড়ল। এরই মধ্যে রাজা স্বপ্ন দেখল যে তাঁর দুই মেয়েকে উৎসর্গ করতে হবে। তাদেরকে পুকুরের মাঝখানে পুঁজা দিতে হবে। প্রজাদের কষ্টের কথা চিন্তা করে রাজা তাই করালেন। মেয়েরা পুকুরে নেমে পুঁজা করতে লাগল। পুকুরে পানি উঠতে লাগল। সেখানেই তাদের সলিল সমাধি হল। তাদের একজনের নাম ছিল সিন্ধুর আরেকজনের নাম ছিল মতি। এ নামেই এ পুকুর/দীঘি’র নাম করণ হয়েছে।

সেখানে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে আবার রাজারহাট বাজারে এলাম। দুপুরে বাসায় এসে গোসল, খাওয়া দাওয়া শেষে আবার রিকসা ধরলাম কুড়িগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে। সেখানে কিছু পরিচিত ছিলেন। তাদের সাথে দেখা করা ও শহরটা দেখাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তবে খুব বেশি কিছু দেখা হল না। সন্ধ্যায় গেলাম ধরলা ব্রিজে। কিছুই দেখতে পারলাম না। আসলে বিকালে গল্প করেই সময়টা পার করে ফেলেছিলাম।

পরের দিন (শুক্রবার) সকালেও ঘুরে ফিরেই সময়টা কাটল। দুপুরে কুড়িগ্রাম এসে বাসে উঠলাম। রাত ১০.৩০ এ রাজশাহী এসে পৌঁছালাম।
কুড়িগ্রাম শহরের যে বিষয়টা সবচেয়ে অবাক করেছে সেটা হলো ট্রাফিক আইন। সেখানে পেছনের যাত্রীকে অবশ্যই হেলমেট পরতে হবে। এমনকি নারী হলেও। এটা আমি ঢাকা’র ক্যান্টনমেন্টেও দেখিনি। ট্রাফিক আইন কতটা কড়া তা বুঝলাম যখন সকলের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মোটর সাইকেলে করে বেড়াতে পারিনি। কারণ কারই ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তাই কেউই সাহস করল না।

ছবি ফ্লিকারে: http://www.flickr.com/photos/zhraju2003/tags/kurigramrajarhaat/

  • অনেক
    অনেক ধন্যবাদ, আমার ব্লগে আসার জন্যে । শুভেচ্ছা নেবেন ।
    প্রজন্ম ফোরামের লেখা নিয়মিত পড়ি ই’মেলের মাধ্যমে ।