মনপুরা সিনেমা রিভিউ

মনপুরা সিনেমাটি রিলিজ হওয়ার আগে থেকেই ভাবছিলাম যেভাবেই হোক হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখব! কিন্তু রিলিজ হওয়ার দীর্ঘদিন পরেও সে সুযোগ হয়নি বিভিন্ন কারণে! আবার অন্যদিকে ছবিটি দেখেছে এমন প্রায় সবার মুখেই শুনলাম খুব ভাল লাগে নি! কিন্তু আমি তখন তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করলাম, সিনেমাটি থেকে সম্ভবত তোমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল! সে কারণেই হয়তো ভাল লাগেনি মনে হচ্ছে!

যাহোক, যেহেতু হলে গিয়ে সিনেমারা দেখার সময় করতে পারছিলাম না এবং এমন সময় হাতের কাছেই একজনের কাছে ছবিটি’র কপি পেলাম তাই ভাবলাম কম্পিউটারেই দেখি! ভাল লাগলে সময় করে হলে গিয়ে ঋণ শোধ করে আসব! কপিটি হল প্রিন্ট! সুতরাং বুঝতেই পারছেন! তবুও এমনিতে বোঝা যাচ্ছিল! দেখা শুরু করলাম! ১/৩ দেখতে খুব কষ্ট হল! তবুও অনেক কষ্টে শেষ করলাম!

মন্তব্যঃ

-সিনেমার শট গুলো অনেকটাই খাপ ছাড়া খাপ ছাড়া

-চঞ্চল ছাড়া কারও অভিনয়ই ভাল লাগে নি!

-মেয়েটা পোশাক আশাক কোনভাবেই মাঝির মেয়ের মত হয়নি!

-প্রথমেই যখন খুন হয় তখন মামুনুর রশীদ ও তার স্ত্রী’র যে অভিনয় তা মোটেই মিলেনা! মনে হচ্ছিল তারা কোন গডফাদার পরিবারের সদস্য! বাড়িতে একটা খুন হল অথচ তাদের আচরণ এতটা সাবলীল? এটা তো খুনে অভিজ্ঞদের বাড়িতেই হওয়া সম্ভব! একটা সাধারণ বাড়িতে একটা খুন হলে বা কেউ মারা গেলে কি দৃশ্যের অবতারণা হয় তা সহজেই অনুমেয়!

-কোনদিন কেউ নিজের পোষা ছাগল এভাবে ধরেছে কিনা আমার সন্দেহ আছে! পরিচালক সম্ভবত মুরগী ধরা দেখে এভাবে ছাগল ধরার সিন্ধান্ত নিয়েছেন।

-শিমুলের পোশাকটাও ঠিক হয়নি (যখন পাত্রীর পিতা তাকে দেখতে আসে)! গ্রামের জমিদারের সন্তানও এরকম পোশাক পরে না)। আর শিমুলকেও ঐ চরিত্রে একদম মানায়নি; বেশি স্মার্ট চেহারাই সমস্যা!

-আর মূহূর্ত গুলার সাথে গানগুলো বড়ই বেমানান মনে হয়েছে। ব্যতিক্রম হল পরীর মৃত্যুর পরের গান ও পরী যখন সোনাই এর জন্য অপেক্ষা করছিল কিন্তু সোনাই আসল না!

-বিয়ের পর পরী যেভাবে শ্বশুর বাড়িতে ছিল সেটা মোটেই গ্রামের দৃশ্য মনে হয়নি! আমার তো ধারণা পরী’র বিয়ের রাতেই আত্মহত্যা করা উচিত ছিল!

-একটা রোমান্টিক (ট্রাজেডি) ছবিতে নায়ক নায়িকার প্রেমটাই তো প্রাধান্য পাওয়া কথা! কিন্তু এই ছবিতে সেটা পায়নি! আর দর্শক হৃদয়ে তাদের জন্য কোন অনুভূতিই তৈরি হয়নি! ফলে নায়িকা মরার পর তেমন কিছুই মনে হয়নি! মনপোড়া তো দূরের কথা!

সবমিলিয়ে বলব সিনেমাটি কোন ভাবেই আমার কাছে স্বার্থক মনে হয়নি! তবুও এর সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ একটা সুস্থ সিনেমা উপহার দেবার জন্য! আর দর্শকদের সমালোচনা সম্পর্কে একটি কথা বলব যেটি আনিসুল হক তার লেখা ‘মা’ বইয়ের ভূমিকায় বলেছিলেনঃ

“…এরপরও ভুলত্রুটি থাকবে এবং থাকবে বিরূপ সমালোচনাও, তা থেকে আমরা আবারও নিশ্চিত হতে পারব যে আমরা কাজ করছি!”