‘প্রথম আলো’ এক অনবদ্য উপন্যাস

প্রায় ৮ মাসেরও বেশি সময় লাগল আমার এ উপন্যাসটি শেষ করতে! এত লম্বা সময় ধরে কোন উপন্যাস পড়িনি! আসলে ব্যস্ততার কারণেই সময় করতে পারিনি! আর বিশাল কলেরবের এ উপন্যাস পড়তে এমনিতেই অনেক সময় লাগার কথা!

তবে বরাবরই আমি অল্পতে সন্তুষ্ট! ‘গর্ভধারীনি’ পড়ার পর প্রায় ১৫দিন পুরো ঘটনা মাথায় ঘুরছিল! তবে এটা লম্বা সময় ধরে পড়ার কারণে আগের ঘটনা অনেকগুলো স্মৃতি থেকে ম্লান হয়ে গেছে!

উপন্যাসের প্রথম খন্ডে একটা কথা ছিল পুরো উপন্যাসটা পড়ে যার সাথে দ্বিমতের কোন সুযোগ নেই!
লাইনটা হুবহু মনে নেই তবে মর্মার্থ হলঃ

তীর যেমন সামনে ছুটে চলার আগে একটু পেছনে যায় তেমনি  আমাদেরকেও সামনে আগানোর আগে গত শতাব্দীটা সম্পর্কে জানা দরকার!

ইতিহাস ও কল্পনা দুটো মিলেই এক অনন্য উপন্যাস এই প্রথম আলো! বিশেষ করে বঙ্গভঙ্গ, লর্ড কার্জন, নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের আমাদের যে রাজনীতি যে অনেক পুরানো, রবীন্দ্রনাথ, জগদীশ চন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দ ও বলরাম বসু (এসব হিন্দু নেতাদের নাম আগে অন্য একটি কিশোর থ্রিলারে পড়েছিলাম! সেজন্যই এদের সম্পর্কে জেনে পুলকিত হয়েছিলাম), বঙ্কিম, ত্রিপুরা ও তার রাজা-রাজপুত্র প্রভৃতি সম্পর্কে জানার অনুভূতিটা অন্যরকম! আর সম্পূর্ণ কাল্পনিক চরিত্র (ভরত ও ভূমিসুতা) চরিত্রায়ন ছিল অসাধারণ! শেষটা সেজন্যই ভাল লেগেছে যদিও উপন্যাসের পটভূমি হিসেবে একটা বেমানান মনে হচ্ছিল! তবে ভেবে দেখলাম দ্বিতীয় খন্ডটা রাজনীতি  নিয়ে! আর এটা শেষ কোথায়? সুতরাং সে হিসেবে শেষটা ঠিকই আছে!

তবে কিছু চরিত্র সম্পর্কে আমার দারূন আগ্রহ ছিল কিন্তু সেগুলোর শেষটা জানলাম না! হয়তো আর কিছু বই পড়তে হবে। যেমনঃ গান্ধী, দেবেন্দ্রনাথ (একটা আত্মজীবনী আছে তার! রা.বিতে বই মেলায় দেখেছি! কিন্তু বেশি মোটা বই! তবে পড়ার ইচ্ছা আছে), জগদীশ চন্দ্র বসু প্রমুখ!

আর এটি পড়ে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনেছি! যদিও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথের একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে তার দোষ ত্রুটি’র একটা ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন তবুও তার ব্যাপৃত জীবন সম্পর্কে জেনে খুবই ভাল লাগছে!

এরকম একটি উপন্যাস পড়ে নিজেকে সৌভাগ্যবানই মনে হচ্ছে! এরপর সেই সময় পড়ার ইচ্ছে আছে।