কেমন গেল আমার ২০০৯?

২০০৯ সালটা আমার জন্য মোটামুটি প্রায় সবদিকে থেকেই সৌভাগ্যের একটা বছর ছিল (আলহামদুলিল্লাহ)। কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এ বছরটি ছিল শুধুই প্রাপ্তির। আবার এ বছরেই ঘটে গেল জীবনের একটা বড় ট্রানজিশন। আমি ছাত্র জীবন শেষ করলাম। বড়ই সুখের জীবন হলেও গথবাঁধা নিরস পড়াশোনা করতে আর ভাল লাগছিল না। তাই এটি শেষ করতে পেরে কিছুটা স্বস্ত্বিতে আছি। কিন্তু শান্তিতে আছি একথা বলতে পারিনা। ৬-৭ বছরের একটা জীবনকে কয়েকমাসে ভুলতে পারছি না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সবারই সম্ভবত এমনটি হয়!

২০০৯ সালের প্রথম দিক থেকেই আমি আর্থিকভাবে কিছুটা সাবলম্বী হতে শুরু করেছিলাম। আগে প্রায় প্রতিদিনই ভাবতাম আমার সাইটগুলো (বিশেষ করে প্রজন্ম) চালানোর খরচ তুলব কিভাবে। কিন্তু বছরের মাঝামাঝি’র দিকে এসে সেসব চিন্তা মাথা থেকে চলে গেল। তাছাড়া সে সময় সুমন (এডমিন) এর আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার প্রতিশ্রুতি পেয়ে নিজেকে অনেক হালকা মনে হয়েছে।

তাছাড়া ২০০৯ সালেই ছাত্রাবস্থায় একটি চাকুরিতে যোগ দেই। এটি ফুল টাইম অফসাইট জব ছিল যতদিন না পরীক্ষা শেষ হয়। মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাজশাহীতে বসেই কাজগুলো করতাম। প্রথম কয়েক মাসেই বেশির ভাগ কাজ আমি অটোমেটেড করে ফেলেছিলাম যার ফলে বছরের শেষের দিকে এসে আমাকে এ ব্লগ লিখতে হয়েছিল। এ ছয় মাসে সিস্টেম এডমিন বিশেষ করে সিপ্যানেল সার্ভার স্যুট সম্পর্কিত অনেক জিনিস শিখেছি যদিও শেখাটা ছিল উচিতের চেয়ে কম। আর এই দুই কারণে (অন্য কয়েকটি কারণও আছে বটে) বছর শেষের কিছুটা আগেই সিন্ধান্ত নিলাম ইস্তফা দেবার। নতুন বছরের ২য় কোয়ার্টারে নতুন করে কিছু ভাবব! ফ্রেব্রুয়ারী ১ থেকে ততটা সময় বেকার জীবনের স্বাদ গ্রহণ করতে চাই।

২০০৯ সালে পিএইচপি গ্রোগ্রামিং এ শেখার চেয়ে কাজ করেছি বেশি। তবে এটা ঠিক এ বছরই ডাইভারসড টাইপের কাজ করেছি যা আমার কনফিডেন্স লেভেল কে কিছুটা হলেও বাড়িয়েছে।

২০০৯ সালের আগে আমি কখনও এত সিনেমা দেখিনি। কতগুলো দেখেছি জানিনা। তবে একেবারেই আনএডুকেটেড গেস হল ১০০-১৫০। এর চেয়ে কম-বেশি দুটোই হতে পারে তবে ১০০ এর কম হওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখি না। এর মধ্যে অসাধারণ কিছু সিনেমা দেখেছি যা হয়তো সহজে বা কখনোই ভুলব না। আমার প্রিয় কিছু সিনেমা’র তালিকা আছে আমার ব্লগে

ছোট বেলা থেকে কয়েকটি জিনিসের খুব বেশি শখ/ইচ্ছা ছিল যেগুলো কখনোই বাস্তবায়ন করতে পারিনি বা করিনি। সেগুলোর মধ্যে দুটো বড় শখ ২০০৯ সালেই বাস্তবায়ন করেছি। প্রথমটি হল ভ্রমণ। আমার সেজো (৩য়) ভাই ছাত্র জীবন থেকে ভালই বেড়াতেন। মূলতঃ তাঁর দেখে আমার ভ্রমণের আগ্রহটা বেড়েছিল। এ বছরই আমি দেখের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি। এখানে ওখানে কম জায়গায় যাইনি! গত ছয়মাসেও অনেক ঘুরেছি। জবটা রিমোটলি হওয়ায় তেমন সমস্যা হয়নি:)। সময় পেলে হয়তো ২০১০ এর মধ্যে ইনশাআল্লাহ ৬৪ জেলা ঘুরে আসতে পারব।
আমার দ্বিতীয় ইছ্ছাটি অবশ্য ২০০৯ এর আগেই পূরণ হয়েছিল। তখন ইছ্ছা/শখ ছিল একটি ক্যামেরা কিনব। কিন্তু একটি ডিএসএলআর কেনার শখ ২০০৯ই হয়েছিল। এ ইচ্ছাটি অবশ্য খুব দ্রুতই বাস্তবায়ন হয়েছিল। গত সপ্তাহেই কিনেছি ক্যানন ৫০০ডি ক্যামেরা।

২০০৯ এর দিকে আরও একটি ইচ্ছে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। সেটি হল বাঁশি বা বেহালা বাজানো শেখা। আলমগীর ভাই আমাকে বাঁশি বাজানোর কিছু অপকারিতার কথা বলতেই আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম এবং সিন্থান্ত নিয়েছিলাম বেহালাই শিখব। শুরুও করেছিলাম। সারগাম টা শেখা শেষ করতে না করতেই রাজশাহী ছাড়তে হল। এখন এখানে নতুন কোন গুরু পেলে হয়তো আবার শুরু করব।

আর এ বছরে যা হারিয়ে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় কয়েকটি জিনিস হলঃ
১. আমার বড় দুলা ভাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন।
২. আমার জীবন থেকে আরও একটি বছর চলে গেল।
৩. বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অবসান

আপাতত আর তেমন কিছু মনে পড়ছে না। যখন মনে পড়বে তখন লিখব।

যাহোক, সবমিলিয়ে চমৎকার একটি বছর গেছে ২০০৯। সেজন্যই সৃষ্টার কাছে কৃতজ্ঞ। সবাই দোয়া করবেন যেন ২০১০টাও আমার এবং সবার জন্য ভাল হয়।